এই কবিতাটি একটি মজাদার এবং হাস্যকর গল্পের মাধ্যমে, নন্দলাল নামে এক চরিত্রের মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনা বর্ণনা করেছে। কলমে : সোনালী দাস , আমাদের ছাত্রী সায়ন্তনী দাসের অভিভাবক।
নন্দলালের গন্ধ খোঁজা
হঠাৎ করে মধ্যরাতে
উঠলো জেগে নন্দ,
লাফিয়ে নেমে হাত পা ছুঁড়ে
বলছে কিসের গন্ধ!
গন্ধ কি আর, যেমন – তেমন?
বলব কি আর ভাই;
নাকের পরে রুমাল চেপে
তবুও শান্তি নাই।
খাটের নীচে, আলমারিতে,
বইয়ের তাকে শুঁকে –
পড়ছে বসে ধপাস করে!
হাতটি রেখে বুকে।
ফ্রিজের ভেতর নাকটি গুঁজে
আঁশটে মাছের গন্ধ,
তবুও বলে কি আর এমন
গন্ধ তো নয় মন্দ।
আবার খোঁজে এদিক-সেদিক
বারান্দা আর ঘরে,
কোথাও যদি ইঁদুর-টিদুর
এমনি চাপা পরে।
সবার ঘরে জ্বলছে বাতি
কোথায় কিসের গন্ধ!
আজকে করো ঘুম হবেনা
নেইকো তাতে সন্দ।
শুঁকছে জামা, শুঁকছে জুতো,
নুইয়ে মাথা ভুঁয়ে,
ডাস্টবিন টাও নেড়ে-ঘেটে
দেখছে ছুঁয়ে ছুঁয়ে।
এমন সময় হঠাৎ রেগে
চোখ পাকিয়ে বলে,
সবার মাথায় গোবর ভরা
এভাবে কি চলে?
খুঁজবে কোথায়, সবাই মিলে
নেইকো তেমন ইচ্ছে!
কুম্ভকর্ণের জাত ভাই সব
নাক ডেকে ঘুম দিচ্ছে!
এই না বলে হঠাৎ ছুটে
দাদুর ঘরে গিয়ে,
দেরাজ গুলো ভাঙছে ঠুকে
হাতুর – বাটাল দিয়ে।
তারপরেতে দাদুর প্রিয়
বাক্সতে নাক দিয়ে,
ভাঙলো তালা উল্লাসেতে
অনেক আশা নিয়ে।
যেই না খোলা, অমনি সবাই
ওয়াক! বলে ছোটে,
বাপরে! সেকি গন্ধ!
সেতো যায়না ভোলা মোটে।
বাক্সে দাদুর রাখা ছিল
বিখ্যাত এক মোজা,
কষলে হিসেব বয়েস টা তার
এমনি যাবে বোঝা।
এই মোজাটাই শেষ সময়ে
কেউ রেখেছে খুলে,
দাদুর শোকে কাঁচতে সেটা
সবাই গেছে ভুলে।


